Bangladesh
Travel
সোনালী সপ্নের সোনার চর | Part 3
সোনালী সপ্নের সোনার চর | Part 3
পাখির কিচিরমিচির ডাকা ভোরে ঘুম
ভাংগলো। একটু একটু করে আলো ফুটছে চারপাশে। শুয়ে শুয়ে দেখছি আলোর বিস্তার৷
মামুন ভাই আমি এক তাবু শেয়ার করেছিলাম। পাশে উনাকে পেলাম না। খুব ভোরে ছবির
ভাল সাবজেক্ট পাওয়া যায় বিধায় ছবি পাগল মামুন ভাই কে পাওয়া যায় না৷ তাবু
থেকে বের হয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের টানে একটু বের হলাম৷ ঘড়ির কাটায় সাড়ে
ছয়টা৷ গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেটে চলছি৷ ভোরের শুভ্রতায় আদি দিগন্ত সবুজ কচি
ঘাসের প্রান্তরে পা ফেলে শিশিরের প্রথম বিন্দু অনুভব করলাম৷ দূরে সবুজের
অরণ্যে মাঝে পাখির কলরবে আর ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে আমার প্রাণ জুরিয়ে
যাচ্ছে। পায়ের নীচে শর্ষে নিয়েই মনে হয় আমার জন্ম। এই জীবনে আর স্থিরতার
দেখা পেলাম না৷ ভোলা, পটুয়াখালি অঞ্চলে নারিকেল গাছটা মনে হয় অতি কমন।
হাটার পথেই পাওয়া যায় তাহার দেখা৷ মাথা উচু করে ধনুকের মত তার উপস্থিতি
জানান দিচ্ছে৷ এত সুন্দর সকালের মত যদি দিনটাও সুন্দর হত তাহলে কোন কথাই
ছিল না৷ আর একটি মিস ম্যানেজমেন্টময় মারা খাওয়া দিনের শুরু সেই গল্পটা না
হয় নাই বললাম গুরু ৷
![]() |
| সোনালী সপ্নের সোনার চর |
সকালে নাস্তা সেরে এডভেঞ্চারের নেশায় ২-৩ ঘন্টা
পারি দেবার পর পেলাম আমাদের কাংখিত ট্রলার। চর মন্তাজ থেকে আজ এসেছে আজ
আমাদের ঘুম ভাংগাতে৷ কুকরি মুকরি থেকে রওনা দিতে দিতে ১২ টা বেজে গেল৷ চলছে
ট্রলার আদি দিগন্ত জলের রাজ্য পার হয়ে। কাঠফাটা রোদ আলোর মাঝে প্রকৃতি
মেতেছে আজ আপন রং এ রাংগাতে৷ গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে পথের ক্লান্তির মাঝে
চলছে আমাদের অদ্ভূত কাফেলা। জলপুত্ররা জাল বুনছে নদীর পাড়ে। সোনা রোদে
রুপালী ইলিশের সপ্নে বিভোর জলপুত্রদের নৌকা গুলো আজ চলছে নতুন উদ্দ্যমে। আজ
আকাশ পরিষ্কার৷ বর্ষা ভিজে এল যেন শরৎ এর আহবান৷ প্রকৃতি রং ছড়াছে
সৌন্দর্য্যের। শরৎ এর নীল আকাশে পেজা তুলোর মত মেঘ ভাসছে। জলের জীবন দেখতে
দেখতে চলে এলাম চর মন্তাজের মার্গারেট সাইডে৷ ট্রলার থামলো। এখান থেকে
ডেকোরেশন আইটেম নেওয়া হবে৷ ঘড়িতে দুপুর দুইটা৷ তপ্ত রোদে মহিষের দল নেমেছে
তেতুলিয়ার বুকে৷ আর আমরা টিনের দোকানে বসে খাচ্ছি চা বিস্কুট কলা রুটি। আধা
ঘন্টা পর ফিরে এল মহাজনরা। আবার রওনা হলাম বিকাল প্রায় ৪ টার দিকে চর
মন্তাজ এসে থামলাম৷ এখান থেকে নেওয়া হবে আমাদের রান্না বান্নার মাল মসলা ।
প্রায় এক ঘন্টার কাছাকাছি অপেক্ষার মাঝে দেখে নিলাম চর মন্তাজবাসীদের জীবন
যাত্রা। ট্রলারে দীর্ঘ যাত্রায় খাতির জমে গেছে জিয়া ভাই, শুভাশিষ'দা,
আলামিন ভাই সহ আরও অনেকের সাথে । এর মাঝে আমার গণেশ'দা জিয়া ভাই এর কথা
বলতেই হয়৷ এত রাগ নিয়ন্ত্রণ করে রাখে কি ভাবে সে এক রহস্য৷ সর্বদা
হাসি-খুশি মানুষ। গল্পের আসর জমে গেছে। স্থানীয় মানুষের সুখদুক্ষের প্যাচাল
শুনতে শুনতে দেখতে পেলাম আসছে আমাদের লিডার এবং তার মডরেটর গোষ্টী। ঘড়িতে
পাচটা এবার নেই কোন বিরতি। গন্তব্য সোনার চর ।
![]() |
| সোনালী সপ্নের সোনার চর |
চর মন্তাজ থেকে সোনার
চর যেতে বেশি সময় লাগে না। তেতুলিয়া নদীর উথাল পাথাল স্রোতের মাঝে চলছে
আমাদের ট্রলার। খুব কাছেই সাগর ঢেউ দেখেই বুঝা যাচ্ছে৷ বিশ মিনিট পর ট্রলার
একটা ক্যানেলের ভিতর ঢুকে গেল। আর আমরা দ্বিতীয়বারের মত প্রবেশ করলাম এক
সম্মোহক জগৎতে৷ দুই পাশের মানগ্রোভ গাছের সারি আর তার শ্বাসমূল, উপরে খোলা
আকাশের রিফ্লেকসন পড়ছে ক্যানেলে৷ সবুজের স্বর্গরাজ্যের মাঝে যেন হারিয়ে
গেলাম৷ পিনপতন নিরবতার মাঝে কোন একটা বোধ আছে। শূণ্যতার মাঝে এক প্যারালাল
জগৎ এ যেন আটকিয়ে গেছি৷ যেন আমাদের জানাচ্ছে আহবান। মানুষবিহীন এই সোনার
চরে তোমাকে স্বাগতম হে পথিক। মাঝি চাচার কল্যানে বাবলা আর হরগোজা গাছ চিনতে
পারলাম৷ এ যেন সুন্দরবানের আর এক প্রতিচ্ছবি।
ভোলা, পটুয়াখালি, বরগুনায়
অঞ্চলে লুকিয়ে আছে গোপন সৌন্দর্য্য যা সহযে পড়ে না পথিকের চোখে৷ থাক না
কিছু সৌন্দর্য্যে পথিকের আড়ালে৷ মানুষবিহীন চর থাকুক মানুষের স্পর্শের
বাহিরে৷ ফরেস্ট বিট অফিসে প্রথমে থামানো হল আমাদের ট্রলার৷ তখন প্রায়
সন্ধ্যা৷ বিট অফিসার আমাদের মামুন ভাইয়ের চাচাতো ভাই৷ কাকতলীয় ব্যাপার। তার
কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ট্রলার আগে বাড়ালাম। খানিকটা দূর এসে বন বিভাগে শান
বাধা ঘাটে আমাদের ট্রলার ভিড়ানো হল। আর আমরা দীর্ঘ যাত্রা শেষে আড়মোড়া
ভেংগে নেমে পড়লাম৷ আজ প্রকৃতির বুকে নেমেছে সন্ধ্যা আর আমাদের পায়ের স্পর্শ
পেল কাংখিত সোনার চর ৷
![]() |
| সোনালী সপ্নের সোনার চর |






0 comments