Country
Places
Travel Guides
Trip Ideas
Kashmir The Heaven On Earth | Travel Guides | কাশ্মীর | Part 3
শ্রীনগর ভ্রমণ তথ্য :
কাশ্মীরের সবচেয়ে বড়ো শহর হলো শ্রীনগর,
যার অধিকাংশই মুসলিম। প্রায় ১৩ লক্ষ লোকের এ শহর ঐতিহাসিক ভাবে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এবং সেন্ট্রাল লোকেশনের কারণে আপনি যেদিকেই যাবেন, আপনাকে
কমবেশি শ্রীনগর কে টাচ করে যেতে হবে।
শ্রীনগর শহরের অনেকাংশ জুড়ে
আছে নয়ন জুড়ানো, বিখ্যাত ডাল লেক। মিশন কাশ্মীর ছবির "চুপ কে সে সুন্"
গানটা মনে আছে? লাল টুকটুকে জামা পড়া প্রীতি জিনতা, হলুদ রঙের শিকারা তে
বসে হৃত্বিক রোশানের সাথে গান গাইছে? চুরি ভর্তি হাত পানিতে নেমে ছুঁয়ে
দিচ্ছে ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা পানি। লেক ঘিরে আছে হালকা নীল পাহাড়। লেকের
পাড়ে সারি করে সাজানো অগণিত হাউজ বোট। ১৫ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই লেক
কে বলা হয় "জুয়েল অফ শ্রীনগর" এবং বেপারটাতে এতটুকু অতিরঞ্জন নেই। খুব
সকালে উঠে লেকের পাড়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে দূরের কোনো গ্রাম থেকে শিকারাতে
ভেসে আসছে ফুল ভর্তি নৌকা, অথবা রঙিন ভেজিটেবলস। হয়তো দেখবেন প্রৌঢ় কোনো
চাচাজি আপন মনে শিকারা চালিয়ে যাচ্ছেন, লেকের স্বচ্ছ শান্ত জলে। শিকারা তেই
ভাসুন, অথবা লেকের পাড়ে হাটু সমান দেয়ালে বসে সব কিছু গভীর ভাবে লক্ষ্য
করুন, একটা মুহূর্ত আপনার খারাপ লাগবে না।
ডাল লেকের পূর্বকোনায়
যেখান থেকে বুলেভার্ড রোড শুরু, সেই জায়গাটাকে বলে ডাল গেট। এই নামকরণের
কারণ হলো, বুলেভার্ড রোডের পাশে লেকের এক চিলতে যে জায়গাটা আছে, তার ওই
পারে সারি সারি করে সাজানো আছে হাউজ বোট। আর বুলভার্ড রোডে একটু পর পর আছে
ডাল গেট নং - ১, ২. ৩. ...... ইত্যাদি। এই গেটের পাশে লেকে দাঁড়িয়ে থাকে
হাউজ বোটে যাওয়ার জন্য শিকারা। আর শিকরার মালিকরা দাঁড়িয়ে থাকে কাস্টমার
ধরার জন্য, হাউজবোটে ট্রান্সফার করার জন্য অথবা লেকে শিকার রাইড করানোর
জন্য। লেকের পার দিয়ে এই অংশটা বেশ বিড়ম্বনার। ৯০% সময় আপনাকে কাউকে না
কাউকে বলতে থাকতে হবে যে আপনার শিকার অথবা হাউজ বোট দরকার নাই। কিন্তু
stay cool, শান্ত থাকুন, হাসি মুখে থ্যাংক ইউ / শুকরিয়া বলতে থাকুন।
বুলেভার্ড রোডের একপাশে তো ডাল লেক, অন্য পাশে অনেক বাজেট থেকে শুরু করে
মিড্ রেঞ্জের হোটেল আছে। আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা হাউজ বোট থাকলেও হাউজবোট
দেখে ভালো না লাগায় আর প্রতিবার বোটে যেতে হলে শিকারা প্রয়োজন হওয়ায় আমি
শেষ অবধি আর হাউজ বোটে থাকিনি। বুলেভার্ড রোডে একটা হোটেলে থেকেছি।
ডাল লেক ছাড়াও কাশ্মীরে আছে পরী মহল, যা সাতটি টেরেস এর একটা অদ্ভুত
সুন্দর একটা গার্ডেন, মুঘল আমলে বানানো। পাহাড় চূড়ায় বানানো এই দুর্গ সদৃশ
বাগান মুঘল আমলে বানানো, ষোড়শ শতাব্দীতে। নিচে তাকালে পুরো শ্রীনগর এবং
ডাল লেক দেখা যায়, এক বেলা কাটানোর জন্য এটা একটা অনন্য জায়গা। "চুপ কে সে
সুন্" গানের কয়েকটি দৃশ্য এখানে নেয়া। ডাল লেকের পূর্ব পাশ দিয়ে ডাল গেট
থেকে শালিমার গার্ডেন এর দিকে চলে যাওয়া বুলেভার্ড রোডের বেশ খানিকটা
ভিতরে, ডাল গেট থেকে আনুমানিক ৯ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। ডাল গেট থেকে
নিয়মিত শেয়ার্ড জিপ যায় শালিমারের দিকে, SKICC কনভেনশন সেন্টার পার হয়ে
চেশ্মা শাহী রোডের মুখে নেমে যান, ২০ রুপি তে, এখন থেকে একটা অটো নিয়ে নিন,
অথবা হেটেও যেতে পারেন, ৪ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের উপর পড়বে পরী মহল। পরী
মহল খোলা থাকা শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত,
তবে ঢুকতে পারার শেষ সময় বিকাল ৪:৩০ মিনিট। এন্ট্রি ফি ১০ রুপি।
যদি হেটে যান, তাহলে চেশ্মা শাহী রোডের একটু সামনেই পাবেন শ্রীনগরের আরেকটি
বিখ্যাত টুরিস্ট স্পট - টিউলিপ গার্ডেন। সিলসিলা মুভির সেই বিখ্যাত গান
"দেখা এক খাব তো নিয়ে" গানটা মনে আছে? অনেকটা সেই রকম। ভারতের প্রাক্তন
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর স্মরণে এই বাগান নির্মিত। বসন্তকালে,যখন
টিউলিপ ফোটে, মার্চ-এপ্রিল মাসে, এক অভাবনীয় সৌন্দর্যে সুন্দরী হয়ে ওঠে এ
বাগান। ব্যাকড্রপে বরফাচ্ছাদিত পাহাড়, আর তার সামনে নানা রংয়ের ফুলে চেয়ে
যাওয়া টিউলিপ গার্ডেন। প্রায় ৪০ ধরণের টিউলিপ ফুল জন্মানো এই বাগান আপনাকে
দিয়ে দিতে পারে অভাবনীয় কিছু স্মৃতি। তবে টিউলিপ পেতে হলে অবশ্যই
মার্চ-এপ্রিলে যেতে হবে, না হলে সব গুড়ে বালি।
চেশ্মা শাহী রোডে
না নেমে যদি যেতে থাকেন আরো সামনে, তাহলে এক সময় আপনি পৌঁছে যাবেন ডাল
লেকের পাড়ে আরেকটি জুয়েল, মুঘল গার্ডেন অথবা নিশাত গার্ডেন। ডাল গেট থেকে
২৫ রুপি পড়বে জনপ্রতি শেয়ার্ড জিপে। টিকেট পড়বে ২৪ রুপি করে। স্তরে স্তরে
ডিজাইন করা এই গার্ডেন ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকে সারা বছর, আর মাঝেখানে দিয়ে
চলে গিয়েছে সুন্দর একটা স্ট্রিম, একটু পর পর সেটা আছড়ে পড়ছে নিচের ধাপে, এক
সময় মিশে যাচ্ছে ডাল লেকে। চারদিকে ঘিরে আছে, অবশ্যই, পাহাড়, আর সামনে
ডাল লেক। প্রবেশ গেটের সামনে দল লেকের পারে একটা ছেলে অথেন্টিক কুলফি
বিক্রি করে, হাতে বানানো, কুষ্টিয়ার কুলফির মতোই মজা। এটা খেতে ভুলবেন না।
মুঘল গার্ডেনের উপরে দাঁড়িয়ে ডাল লেকের ওই পাড়ে তাকান, দেখবেন
একটা অনেক বড়ো গম্বুজ আলা একটা মসজিদ দেখা যাচ্ছে। ঐটা কাশ্মীরের বিখ্যাত
হজরতবাল মসজিদ। কাশ্মীরি ভাষায় "বাল" মানে হলো "স্থান" অথবা "জায়গা", এবং
এই মসজিদের নাম হজরতবাল হওয়ার কারণ হলো এইখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স:)
এর চুল সংরক্ষিত আছে। মুঘল গার্ডেন থেকে একটু সামনে শালিমার এ গেলে ওখান
থেকে শেয়ার্ড জিপ পাবেন হাজরাতবাল মসজিদ পর্যন্ত। ২৫ রুপি নিবে জনপ্রতি।
শালিমারে আছে আরেকটি জুয়েল, শালিমার গার্ডেন। এটিও একটি মুঘল গার্ডেন।
আমি এখানে যায়নি, সময়ের অভাবে। কিন্তু আপনি দেখে আসতে পারেন, যতটুকু
শুনেছি এটাও অনেক সুন্দর একটা বাগান।
কাশ্মীরের একদম সেন্টারে,
সারিকা পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে হারি পর্বত ফোর্ট। শ্রীনগরের যে কোনো
জায়গা থেকেই এটি দেখা যায়, সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহরের
কেন্দ্রে। এই দুর্গ থেকে পুরো শ্রীনগর ভ্যালি আদ্যোপান্ত দেখা যায়।
শ্রীনগর গেলে এটা দেখতে ভুলবেন না।
কখন যাবেন:
মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শ্রীনগর যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময়। নভেম্বর থেকে ফেব্রূয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডা টা অনেক বেশি থাকে। না যাওয়াই ভালো।
মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শ্রীনগর যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময়। নভেম্বর থেকে ফেব্রূয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডা টা অনেক বেশি থাকে। না যাওয়াই ভালো।
কোথায় থাকবেন:
আমার পরামর্শ হলো বুলেভার্ড রোড এর কোনো একটা হোটেলে থাকুন। এখানে অনেক বাজেট হোটেল আছে, যাতে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০ টাকা, আবার অনেক ভালো মিড্ রেঞ্জ হোটেল আছে, যেগুলোর ভাড়া ১৩০০ - ৩০০০ এর মতো পড়বে। এটাই সবচেয়ে ভালো, এবং আমার পছন্দের অপশন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি হাউজবোটে থাকার পক্ষে বলবো না, কিন্তু আপনি চাইলে থাকতে পারেন। এছাড়া সারা শহরে ছড়ানো ছিটানো আরো অনেক হোটেল আছে।
আমার পরামর্শ হলো বুলেভার্ড রোড এর কোনো একটা হোটেলে থাকুন। এখানে অনেক বাজেট হোটেল আছে, যাতে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০ টাকা, আবার অনেক ভালো মিড্ রেঞ্জ হোটেল আছে, যেগুলোর ভাড়া ১৩০০ - ৩০০০ এর মতো পড়বে। এটাই সবচেয়ে ভালো, এবং আমার পছন্দের অপশন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি হাউজবোটে থাকার পক্ষে বলবো না, কিন্তু আপনি চাইলে থাকতে পারেন। এছাড়া সারা শহরে ছড়ানো ছিটানো আরো অনেক হোটেল আছে।
কি খাবেন :
শ্রীনগরে অনেক ভেজিটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে, আছে নন ভেজ রেস্টুরেন্টও। খাবার সস্তা। একটা মাসালা ধাবা ১০০ - ১২০ রুপিতে পেয়ে যাবেন। ফ্রাইড রাইস মিলবে ২০০ রুপিতে। এছাড়া আরো বিভিন্ন শ্রেণীর রেস্টুরেন্ট আছে। আমি খুব একটা ফুডি না, তাই খাবারের তথ্যের ব্যাপারে আমি একটু দুর্বল।
শ্রীনগরে অনেক ভেজিটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে, আছে নন ভেজ রেস্টুরেন্টও। খাবার সস্তা। একটা মাসালা ধাবা ১০০ - ১২০ রুপিতে পেয়ে যাবেন। ফ্রাইড রাইস মিলবে ২০০ রুপিতে। এছাড়া আরো বিভিন্ন শ্রেণীর রেস্টুরেন্ট আছে। আমি খুব একটা ফুডি না, তাই খাবারের তথ্যের ব্যাপারে আমি একটু দুর্বল।
সাইট - সিয়িং এবং ট্রান্সপোর্টেশন নিয়ে কয়েকটি কথা:
শ্রীনগরের ট্যাক্সি এবং অটো অলারা আপনার পেছনে মোটামোটি জোকের মতো লেগে থাকবে, যেমন লেগে থাকবে শিকারা অলারা। তবে আপনি চাইলে ট্যাক্সি/অটো তেও ঘুরতে পারেন, আবার শেয়ার্ড জিপেও ঘুরতে পারেন। সব দিকেই মোটামোটি শেয়ার্ড জিপে যাওয়া সম্ভব, কম খরচে, যদি একটু জিজ্ঞাসা করে করে পথটা বের করার ধৈর্য আপনার থাকে।
শ্রীনগরের ট্যাক্সি এবং অটো অলারা আপনার পেছনে মোটামোটি জোকের মতো লেগে থাকবে, যেমন লেগে থাকবে শিকারা অলারা। তবে আপনি চাইলে ট্যাক্সি/অটো তেও ঘুরতে পারেন, আবার শেয়ার্ড জিপেও ঘুরতে পারেন। সব দিকেই মোটামোটি শেয়ার্ড জিপে যাওয়া সম্ভব, কম খরচে, যদি একটু জিজ্ঞাসা করে করে পথটা বের করার ধৈর্য আপনার থাকে।
শপিং - কাশ্মীরি শাল :
কাশ্মীরে শপিং মাথায় আসলেই যেটা চলে আসে সেটা হলো কাশ্মীরি শাল। অরিজিনাল কাশ্মীরি পশমিনা শাল বানানো হয় এক ধরণের ভেড়ার দাঁড়ি থেকে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। একটা শাল বানাতে অনেক গুলো ভেড়ার দাড়ি প্রয়োজন হয়। এরপর কিছু বৃদ্ধা মহিলা আছেন, যারা এই শাল গুলোর উপর কাজ করতে শুরু করেন। পুরো হাতের কাজ, কোনো মেশিনের কাজ নেই। হালকা কাজের একটা পশমিনা শালে হাতের কাজ করতে ৬-৮ মাস সময় লাগে, খরচ পরে ২৫ হাজার রুপির উপরে। কোনো কোনো ভারী কাজের শাল বানাতে একজন মহিলার ২ বছরও লেগে যায়, এগুলোর দাম হয় ১ থেকে ৫ লক্ষ রুপি পর্যন্ত। সুতরাং সস্তায় যদি কেউ আপনাকে "কাশ্মীরি শাল" অথবা "পশমিনা শাল" বিক্রি করতে চেষ্টা করে, তাহলে ধরেই রাখতে পারেন যে আপনাকে একটা ২ নম্বর জিনিস ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
কাশ্মীরে শপিং মাথায় আসলেই যেটা চলে আসে সেটা হলো কাশ্মীরি শাল। অরিজিনাল কাশ্মীরি পশমিনা শাল বানানো হয় এক ধরণের ভেড়ার দাঁড়ি থেকে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। একটা শাল বানাতে অনেক গুলো ভেড়ার দাড়ি প্রয়োজন হয়। এরপর কিছু বৃদ্ধা মহিলা আছেন, যারা এই শাল গুলোর উপর কাজ করতে শুরু করেন। পুরো হাতের কাজ, কোনো মেশিনের কাজ নেই। হালকা কাজের একটা পশমিনা শালে হাতের কাজ করতে ৬-৮ মাস সময় লাগে, খরচ পরে ২৫ হাজার রুপির উপরে। কোনো কোনো ভারী কাজের শাল বানাতে একজন মহিলার ২ বছরও লেগে যায়, এগুলোর দাম হয় ১ থেকে ৫ লক্ষ রুপি পর্যন্ত। সুতরাং সস্তায় যদি কেউ আপনাকে "কাশ্মীরি শাল" অথবা "পশমিনা শাল" বিক্রি করতে চেষ্টা করে, তাহলে ধরেই রাখতে পারেন যে আপনাকে একটা ২ নম্বর জিনিস ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের হাতে ধরে পুরো
শ্রীনগর ঘুরিয়ে এনে আমি এখন একটু ক্লান্ত। আপনারা এবার নিজেদের মতো করে
কাশ্মীরের সৌন্দর্য আর লাইফস্টাইল উপভোগ করুন, খাওয়া দাও করুন। আমি চললাম
বিশ্রাম নিতে। শুভ রাত্রি।





0 comments